শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

পবায় ৮০ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার পেল দুইটি করে ছাগল-স্বাবলম্বিতার পথে নতুন উদ্যোগ

WP Import ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ০২:১৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ০২:১৯ অপরাহ্ন
পবায় ৮০ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার পেল দুইটি করে ছাগল-স্বাবলম্বিতার পথে নতুন উদ্যোগ
পবায় ৮০ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার পেল দুইটি করে ছাগল-স্বাবলম্বিতার পথে নতুন উদ্যোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক :


রাজশাহীর পবা উপজেলায় সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবনমান উন্নয়নে ছাগল ও বাসস্থানে ব্যবহারের জন্য ফ্লোরম্যাট বিতরণ করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ডিটিএলপি প্রকল্পের আওতায় মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল চত্বরে ছাগল ও ফ্লোরম্যাট বিতরণ করা হয়। উপজেলার ৮০ জন সুফলভোগীর প্রত্যেককে দুটি করে মোট ১৬০টি ছাগল এবং বাসস্থানের জন্য পাঁচটি করে ফ্লোরম্যাট দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ বলেন,“সরকার পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এই ছাগল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের কাছে আমানত স্বরূপ। তাই এই ছাগলগুলো লালন-পালন করে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে সুফলভোগীরা স্বাবলম্বী হতে পারবেন। এগুলো বিক্রি বা জবাই করা যাবে না—এই শর্তেই বিতরণ করা হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন,“যাচাই-বাছাই করে প্রতিটি ছাগলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিতরণের পর ১৪ দিনের মধ্যে কোনো ছাগল অসুস্থ হলে কিংবা মারা গেলে আমরা তা পরিবর্তন করে দেব।”তিনি আরও জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হবে। এসময় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ছাগল হাতে পেয়ে নওহাটা পৌরসভার তেলিপাড়া এলাকার সুবিধাভোগী শ্রীমতি শুকমনি জানান,“আমরা সবসময় সাহায্যের বাইরে থাকতাম। এবার প্রথমবারের মতো ছাগল পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। ঠিকভাবে লালন-পালন করলে আমাদের পরিবারে আয়ের নতুন পথ তৈরি হবে।”

ছাগল নিয়ে আসা নওহাটা পৌরসভার মহানন্দাখালী এলাকার সুবিধাভোগী আরতী রানী বলেন,“অনেক দিন ধরে এমন সহযোগিতা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। ছাগলগুলো বড় হলে বিক্রি না করে বংশবৃদ্ধি করেই পরিবারে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনার চেষ্টা করব।”

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোতাহার হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান, উপজেলা সমাজসেবা অফিস মোহাম্মদ হোসেন খান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়ালীউল্লাহ মোল্লা, নির্বাচন কর্মকর্তা মতিউর রহমান, বিআরডিবি কর্মকর্তা শামসুন্নাহার প্রমুখ।