‘আমার সোনার বাংলা’ গান নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে ভারতে

সোনার দেশ ডেস্ক :
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ‘আমার সোনার বাংলা’ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে ভারতে। আসামের এক কংগ্রেস নেতার মুখে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের কয়েকটি লাইন উচ্চারণের পরই পুরো রাজ্যজুড়ে শুরু হয় রাজনৈতিক উত্তেজনা।
ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার। আসামের কংগ্রেস নেতা বিধুভূষণ দাস বারাক উপত্যকার শ্রীভূমিতে জেলা কংগ্রেসের এক সভায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘আমার সোনার বাংলা’ গানের প্রথম দুটি লাইন গেয়ে শোনান। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ওই কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার নির্দেশ দেন।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ সবসময় তার লেখায় এবং জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের কথা বলেছেন, সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন, যেটা বিজেপির পছন্দ নয়। রবীন্দ্রনাথের এই মানবতাবাদী দর্শন বিজেপির রাজনৈতিক চিন্তার পরিপন্থী। অথচ রবীন্দ্রনাথ তার পুরো জীবনে এই ঐক্যের কথাই বলেছেন।
এর আগেই মঙ্গলবার আসামের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বভারতীর বাম ছাত্রসংগঠন সিপিআইয়ের (এম) স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (এসএফআই)। আসাম সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্বভারতীর চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে সংগঠনটি। শিক্ষার্থীদের গলায় তখন বাজছিল রবীন্দ্রনাথের আমার সোনার বাংলা গানটি।
এসএফআইর পক্ষ থেকে জানানো হয়, রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়া যদি দেশদ্রোহ হয়, তাহলে বিশ্বভারতীকে তার মূল আদর্শই অস্বীকার করতে হবে। তারা আরও ঘোষণা দেয়, এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিকরাও আসাম সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। কবিগুরুর পরিবার সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন, দেশ বা কাল না দেখে আমরা নিয়মিত রবীন্দ্রনাথের গান গাই।তাহলে কি আমরা সবাই রাষ্ট্রদ্রোহী?
তবে আসামের বিতর্ক শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেন কর্ণাটকের বিজেপি সাংসদ বিশ্বেশ্বর কাগেরি। তিনি মন্তব্য করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি ব্রিটিশদের খুশি করতে ‘জন গণ মন’ লিখেছিলেন।
এই মন্তব্যেরও কড়া জবাব দিয়েছেন ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য প্রচার করছে এবং কবিগুরুকে অপমান করছে। এটা শুধু রবীন্দ্রনাথের প্রতি অবমাননা নয়, গোটা ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি অবজ্ঞা।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ