এখনো তহবিল বুঝে পায়নি রাকসু’র প্রতিনিধিরা, যথাসময়ে ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

রাবি প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ গ্রহণের পর মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) প্রথম সভা করেছেন। সভায় আলোচিত বিষয়বস্তুু ও ক্যাম্পাসের সার্বিক অবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাঁরা। বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাকসু ভবনের সামনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এখনো রাকসু তহবিল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি বর্তমান সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ। তহবিল বুঝিয়ে পেতে দেরি হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইশতেহার বাস্তবায়ন করা নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত। রাকসু তহবিলের ২০১৩ থেকে বর্তমান পর্যন্ত নথিপত্র আছে। পূর্বের ২২ বছরের সুনির্দিষ্ট হিসাব অনুপস্থিত। কারণ পূর্বের টাকা ব্যাংকে না নিয়ে সরাসরি নেওয়া হতো। তহবিলের টাকার হিসাব নির্ধারণের জন্য একটি অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিবে। পূর্বের সভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষরা এই হিসাব দিতে না পারলে রাকসু এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, এজিএস সালমান সাব্বির। লিখিত বক্তব্যে সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহ তুলে ধরা হয়। সিদ্ধান্তগুলো হলো- রাকসু তহবিল (বিগত ৩৫ বছরের রাকসু তহবিলের স্পষ্ট হিসাব এবং রাকসু তহবিলকে ব্যবহার উপযোগী করতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা দ্রুত বুঝে পাওয়া), সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মার পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, রাকসু’র পক্ষ থেকে জারাফার জন্য ফান্ড রেইজিং, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল রোডম্যাপ তৈরি এবং সমাজ স্বীকৃত পোশাক নিয়ে কটূক্তিকারীদের শাস্তির আওতায় আনা (অধ্যাপক আল মামুনের এক ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি)।
এছাড়া প্রত্যেক হলে পানির ফিল্টার মেশিন স্থাপন; প্রত্যেকটি একাডেমিক বিল্ডিং এ স্যানিটাইজেশন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন; ছাত্রী হলের সামনে ফার্মেসি, সুপার শপ, মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিতকরণ; মহিলা জিমনেসিয়াম চালুকরণ; হল এরিয়া, একাডেমি ভবন, স্যুভেনির শপে উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালুকরণ; আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং ক্লিন ক্যাম্পাস কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
রাকসু তহবিল সম্পর্কে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, রাকসু’র সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ তহবিল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট আমাদের দিতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালনে রাকসু তহবিল থেকে ১২ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে, যা রাকসু’র সাথে সংশ্লিষ্ট না। নির্বাচন হওয়ার পর থেকে আমরা এখনো পূর্ণভাবে কাজ শুরু করতে পারছি না-কারণ রাকসুর তহবিলের হিসাব আমাদের কাছে পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। গতকাল (মঙ্গলবার) আমরা রাকসু তহবিলের অডিট কমিটি পাস করাতে পেরেছি, কিন্তু এটি আরও আগেই করা উচিত ছিল। নির্বাচন যে অনুষ্ঠিত হবে, তা সবারই জানা ছিল; তাই নির্বাচনের আগেই এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রম শুরু করতে পারতেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু তহবিলের হিসাব পেতেই যদি ছয় মাস লেগে যায়, তাহলে বছরে নির্ধারিত সব কার্যক্রম আমরা কীভাবে শেষ করবো-এ নিয়েই এখন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচিত হওয়ায় তহবিলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ থাকার কথা, কিন্তু সেই অর্থের কোনো অংশই এখনো আমরা পাচ্ছি না। ফলে শিক্ষার্থীদের আস্থা বজায় রেখে যে পরিকল্পনা রাকসু প্রতিনিধিরা হাতে নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে এখন শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
তহবিল বুঝে পেতে দেরি হলেও ইশতেহার বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ভিপি বলেন, বিভিন্ন অর্থদাতা সংগঠন, ট্রাস্ট, প্রশাসন, রুয়া-সহ বিভিন্ন সোর্স থেকে অর্থ সংগ্রহ করে কাজ করা হবে, একেবারেই কোথাও থেকে অর্থ সহযোগিতা না পেলে রাকসু তহবিল ব্যবহার করা হবে।
জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, আগামী ১১ নভেম্বর সায়মা হোসেনের মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।
এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, রাকসু’র তহবিলের হিসাব বের করার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটি আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করবে। আমাদের জানানো হয়েছে, রাকসু তহবিলের ২০১৩ থেকে বর্তমান পর্যন্ত নথিপত্র আছে এবং পূর্বের ২২ বছরের হিসাব অনুপস্থিত। পূর্বের টাকা ব্যাংকে না নিয়ে সরাসরি নেওয়া হতো।
এজিএস আরও বলেন, তহবিলের টাকা কোথায় গিয়েছে, কীভাবে গিয়েছে, রাকসুর পূর্বের সভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষ কীভাবে ব্যয় করেছে, সেটার হিসাব ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাবদিহি দিতে হবে। যদি উনারা দিতে না পারে তাহলে রাকসু এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, রাকসু’র মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম, সহকারী মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক আসাদুল্লাহ, সহকারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সাঈম, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ প্রমুখ।