রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

বাঘায় চকরাজাপুর চরে জীবনের ঝুকি নিয়ে বাস করছেন সোবহান মন্ডলের পরিবার

WP Import ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৫৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:৫৮ অপরাহ্ন
বাঘায় চকরাজাপুর চরে জীবনের ঝুকি নিয়ে বাস করছেন সোবহান মন্ডলের পরিবার
বাঘায় চকরাজাপুর চরে জীবনের ঝুকি নিয়ে বাস করছেন সোবহান মন্ডলের পরিবার

আমানুল হক আমান, বাঘা:


রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চকরাজাপুর চরে জীবনের ঝুকি নিয়ে বসবাস করছেন সোবহান মন্ডলের পরিবার। পদ্মা থেকে প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে জমি ভাড়া নিয়ে সোবহান মন্ডল গত বছর বাড়ি করেছিলেন। পদ্মার ভাঙনে ভাঙতে এবার বাড়িটির ধারে এসেছে। যে কোন সময়ে পদ্মাগর্ভে চলে যাবে। উপরের দিকে যাবে কোন জায়গা পাচ্ছে না। তাই জীবনের ঝুকি নিয়ে ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।

জানা গেছে, সোবহান মন্ডল ৫০ বছর আগে বর্তমান বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে প্রথম বাড়ি করেন। সেখানে কয়েক বছর বসবাস করার পর ভাঙনে চলে যায়। পরে সেখান থেকে তিন কিলোমিটার পূর্ব দিকে জমি ক্রয় করে বাড়ি করে সেখানেও ভাঙন থেকে টিকতে পারেননি। এখান থেকে আবারও ৪ কিলোমিটার পূর্ব দিকে জমি কিনে বাড়ি করেও ভাঙনে তাদের বাড়িঘর পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৩ সালের শেষের দিকে কোয়ার্টার কিলোমিটার পূর্বে চকরাজাপুর হাইস্কুলের দক্ষিণে ৫ কাঠা জমি বছরে ৫ হাজার টাকা চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এখানে পদ্মার ভাঙন বাড়ির কাছে চলে এসেছে। যে কোন সময় পদ্মা গর্ভে চলে যাবে। এরপরও জমি না পাওয়ার কারণে জীবনের ঝুকি নিয়ে বসবাস করছেন।

সোবহান মন্ডলের স্ত্রী হাসেনা বেগম বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন থেকে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে ঘরে পড়ে আছে। কেউ কোন সহযোগিতা কওে না। ছেলে হাসিনুর রহমান পদ্মায় মাছ ধরে যা পায়, তা বিক্রি করে কোন মতে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে জীবনযাবন করি।
হাসিনুর রহমানের স্ত্রী ও তিনটি সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে মানিক মন্ডল চকরাজাপুর হাইস্কুলে দশম শ্রেণিতে মেজো মেয়ে জেসমিন খাতুন নবম শ্রেণিতে এবং নাসরিন খাতুন একই স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

হাসিনুর রহমানের স্ত্রী জয়গন বেগম বলেন, একজনের আয় দিয়ে সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়। নদীতে সব সময় মাছ পাওয়া যায় না। অসুস্থ শ^শুর ও বৃদ্ধ শাশুড়ি এবং তিন সন্তানের লেখাপড়া করানো একজনের আয় দিয়ে চালালে হিমসিম খেতে হয়। টাকার অভাবে শ^শুরের চিকিৎসা করাতে পারছি না। এদিকে নদীর ভাঙন বাড়ির কাছে এসেছে। রাতে ঘরে ঘুমিয়ে শান্তি পায় না। যে কোন সময়ে পদ্মা গর্ভে চলে যাবে।
এছাড়া সোবহান মন্ডলের মতো ঝুঁকিতে রয়েছে জয়নাল হোসেন, আজিজুর রহমান, সাইম হোসেন, নয়ন আলী, শহিদুল ইসলাম, মাহাবুল হোসেনের পরিবার।

এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, শুধু সোবহান মন্ডল বা সাইম হোসেন, নয়ন আলী, শহিদুল ইসলাম, মাহাবুল হোসেনের পরিবার ঝুকিতে বসবাস করছেনা। এতের মতো শতাধিক পরিনবার ঝুকিতে বসবাস করছে। পদ্মার পানি কমে যাওয়ার পর নতুন কওে আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে। এ পানি অনেকের উঠানে উঠেছে। তারা খুব কষ্টে ও জীবনের ঝুকি নিয়ে বসবাস করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, পদ্মায় আবার নতুনভাবে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তা অবগত হয়েছি।