সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

জলাতঙ্কের টিকার ঘাটতিতে উদ্বেগ

সোনার দেশ ১৪ মে ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৪ মে ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ন
জলাতঙ্কের টিকার ঘাটতিতে উদ্বেগ

জরুরিভিত্তিতে টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে

দেশে যখন হামের প্রাদুর্ভাবে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, তখন আপদ হিসেবে জলাতঙ্কের টিকা সংকটের বিষয় নিয়ে উদ্বেগ-উ’কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্কের টিকার সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় থাকা হামসহ অন্যান্য টিকার মজুত কতটা আছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোরালোভাবেই আশ্বস্ত করছেন যে, দেশে জলাতঙ্কসহ কোনো টিকারই সংকট নেই। তবে বাস্তবতা ভিন্ন বলেই সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে।


বাংলাদেশে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর হার প্রায় শতভাগ। তবে ব্যাপক টিকাদান ও সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বিগত এক যুগে দেশে জলাতঙ্কে মৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে গড়ে প্রায় ৪০-৫০ জন মানুষ জলাতঙ্ক রোগে মারা যায়।


২০২৬ সালের চলতি মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে জলাতঙ্কের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এবং অনেকেই টিকা নিতে ঢাকা বা বড় শহরে ভিড় করছেন। রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের অধিকাংশ উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার ঘাটতি রয়েছে।


১৩ মে প্রকাশিত সংবাদ মাধ্যমের তথ্য- গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ও ছাপরহাটী ইউনিয়নে এক সপ্তাহে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশুসহ আরও ১২ জন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃতদের সঠিক সময়ে টিকা দেয়া যায় নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতরাও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভ্যাকসিন না পেয়ে বাইরে থেকে চড়া দামে সংগ্রহ করে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমনই খবর চাউর হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এটা বলা যায় যে, জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহে সমস্যা আছে। 


আমরা জানি, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক রোগ। কুকুর, শিয়াল, বিড়াল, বাদুড়, বেজি, বানর ইত্যাদি প্রাণী জলাতঙ্ক সৃষ্টিকারী ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এবং আক্রান্ত প্রাণীটি সুস্থ মানুষ বা গবাদিপশুকে কামড়ালে সেই মানুষ কিংবা গবাদিপশুও এ রোগে আক্রান্ত হয়। দেশে ৯৫ শতাংশ জলাতঙ্ক রোগই হয় কুকুরের কামড়ে।


সারা দেশে বছরে ৬ থেকে ৭ লাখ জলাতঙ্কের টিকার চাহিদা রয়েছে। সরবরাহ না থাকায় ঢাকার বাইরে এই টিকা পাওয়া যাচ্ছে না।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারিভাবে জোগান না থাকলে অনেক মানুষের জন্যই বাইরে থেকে কিনে টিকা নেয়া কঠিন হবে। কুকুরকে টিকা না দেয়ার ফলে জলাতঙ্ক বেড়ে যাবে। কুকুরকে টিকা দিলে জলাতঙ্ক কমে আসে। এখন যেহেতু কুকুরকে টিকা দেয়া হচ্ছে না, তাতে কুকুরের জলাতঙ্ক বাড়বে। আর কুকুরের জলাতঙ্ক বাড়লে মানুষেরও জলাতঙ্ক বাড়বে। অর্থাৎ জলাতঙ্কে মৃত্যুর হার বাড়বে। 


পরিস্থিতি জরুরি বিবেচনায় জলাতঙ্ক টিকাসহ সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় থাকা সব ধরনের টিকার দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার এখনই সময়।