বৃহস্পতিবার ইদুল আজহা
ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক অন্তর
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ইদুল আজহা। মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব, ইদুল আজহা- ‘কুরবানি ইদ’ হিসেবেও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত। আপাত দৃষ্টিতে কুরবানি করা হয় তা মূলতঃ ইসলামী শরিয়তের নিয়মাবলির অংশ হিসেবে। এর মৌলিক শিক্ষা হল পৃথিবীর লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ অনৈতিকতার দ্বারা মানুষের মধ্যে যে পশুত্ব তৈরি হয় তা পরিত্যাগ করা এবং নীতি নৈতিকতা মেনে জীবনকে পরিচালিত করা।
অর্থাৎ ইদুল আজহা ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হওয়ার শিক্ষা দেয়। এ জন্য মহান আল্লাহতাআলা বলেন, ‘আল্লাহর কাছে তোমাদের রক্ত ও মাংস পৌঁছে না বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা ভাষাভাষিদের জন্য বিষয়টিকে আরো সহজ করে দিয়েছেন। কবির ভাষায়- ‘মনের পশুরে কর জবাই, পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই...।’ মনের মধ্যেকার পশুকে জবাই করে অন্তরাত্মাকে আলোকময় করতে পারলেই কেবল আল্লাহ ও জীব-জগতের প্রতি প্রেম-ভালবাসা, ভক্তি-শ্রদ্ধা ও দায়িত্বশীলতা অর্জন সম্ভব হবে। সুতরাং কুরবানির তাৎপর্যময় শিক্ষা হল একাগ্রচিত্তে নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহ তা-আলার নিয়ম-নীতি ও পদ্ধতির দিকে নিজেকে সমর্পণ করা।
হজযাত্রীরা সোমবার (৮ জিলহজ) সকাল থেকে মিনায় অবস্থানের মাধ্যমে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিক করেছেন। শরিয়তের বিধান অনুসারে হাজিরা ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ফজর হতে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেছেন।
মিনায় রাত্রিযাপন শেষে আজ ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। সেখানে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি।
খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবেন হাজিরা। শরিয়তের বিধান অনুসারে আরাফাতে অবস্থান করাই হজ।
৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন হাজিরা। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ শেষে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে মিনায় যাবেন হাজিরা এবং শুধু বড় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কোরবানি দেবেন এবং মাথা মুণ্ডন কিংবা চুল ছোট করবেন।
১১ ও ১২ জিলহজ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা।
শুভ হোক সব কিছুতেই। কর্মস্থলে ফেরাটাও সকলের জন্য শুভ হোক, নিরাপদ হোক। ইদের ছুটির দিনগুলিতে সড়ক দুর্ঘটনা একটি অনাহুত দুর্যোগ যা মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। ইদ-ছুটির প্রথম দিন অর্থাৎ ২৫ মে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একটু সতর্ক হলেই সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই এড়ান যায়। গাড়িচালকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এই পরিস্থিতিকে অনেকটাই প্রশমিত করতে পারে। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে সচেতন থাকবেন- আমরা এ প্রত্যাশাও করি।
ইদুল আজহার তাৎপর্যময় শিক্ষা আমাদের জাতীয় জীবনকে মানবিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ করুক। পরমত সহিষ্ণুতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানসহ মানবাধিকার সমুন্নত রাখার মাধ্যমে শান্তিময় বিশ্বসমাজ সমাজ গঠনে সকলকে উদ্বুদ্ধ করুক।
দৈনিক সোনার দেশের অগণিত পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভান্যুধায়ীদের প্রতি রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা। ইদ মোবারক।