সড়কের ওপর নানা প্রতিবন্ধকতা
আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে
সড়কের পাশে অবৈধ হাট-বাজার গড়ে উঠেছে। এরফলে সড়কে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ফলে প্রতিনিয়ত মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটছে। রাস্তার জায়গা দখল করে দোকান বসানো এবং ক্রেতাদের ভিড়ের কারণে সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যায়, ফলে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় এবং পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
এ ছাড়াও সড়কের উপর ধান, খড়, ভুট্টা শুকানো হয়। এর ফলেও রাস্তায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। এতে করে দুর্ঘটনা ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এবং দুর্ঘটনায় প্রাণহানিসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নেহাতই কম নয়। সড়ক. মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়কে এমন দৃশ্যের বাহুল্য চোখে পড়ে। তারপরও রাস্তা থেকে মারাত্মক ঝুঁকির প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে আইন থাকলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ নেই।
১ জুন দুপুরে ইদযাত্রায় আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার নিশ্চিন্তা-চানপাড়া সড়কের খাড়িতা খড়িকাটা নামক এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে রাস্তার ওপর ছড়িয়ে থাকা খড়ের কারণে মোটরসাইকেল চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের নিচে পড়েন তারা। এতে ঘটনাস্থলেই ওই দুইজনের মৃত্যু হয়।
২০২১ সালের মহাসড়ক আইন অনুযায়ী, মহাসড়কের দুই পাশে ১০ মিটারের মধ্যে হাট-বাজার বা অবৈধ অবকাঠামো তৈরি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য অনূর্ধ্ব দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অথচ এই প্রাণঘাতী সমস্যাটি নিরসনে আইনের প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায় না। পদক্ষেপ নেয়ার উদ্যোগের কথাগুলো বারবারই সামনে আসা কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না। কোনো পরিবর্তন নেই- অথচ এই পরিবর্তনই খুব কাক্সিক্ষত ছিল।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে মহাসড়ক ও ব্যস্ত সড়কের পাশ থেকে অবৈধ বাজারগুলো উচ্ছেদ এবং রাস্তার ওপর ধান-খড় শুকানো বন্ধ করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের প্রয়োজন হবে। সড়ক নিরাপদ করতে নির্দিষ্ট স্থানে বাজার স্থানান্তর করতে হবে। পথচারী ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা করা, রাস্তার ওপর সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা কোনোভাইে গ্রাহ্য করা চলবে না। সড়ক আইন যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।