সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১০ শতাংশ বেড়েছে

সোনার দেশ ০৫ জুন ২০২৬ ১১:০৮ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৫ জুন ২০২৬ ১১:০৮ অপরাহ্ন
মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১০ শতাংশ বেড়েছে

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অবসান কীভাবে?

২০২৫ এর ইদুল আজহার তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে মৃত্যু ১০ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছর মোট মৃত্যুর ৩৪ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণে। সদ্য বিদায়ী ইদুল আজহার ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় যতজন মারা গেছেন, তাঁদের ৪৪ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মোট আক্রান্তদের মধ্যে অর্ধেকের বেশির বয়স ১৪ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।


রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী 

২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত, ইদুল আজহার আগে ও পরে ১৩ দিনে দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৮১ জন, আহত হয়েছেন ৮৩৭ জন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২২ জন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোট প্রাণহানির প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু এবং ৩৭ জন পথচারী রয়েছেন। 


তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ইদুল আজহার আগে-পরে ১২ দিনে দেশে ৩৪৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩১২ জন। এর মধ্যে ১২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ১০৭ জনের, যা মোট নিহতের ৩৪.২৯ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ছিল ৩৪.৮৭ শতাংশ। 


২০২৫ সালের ইদুল আজহার তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কিছুটা কমলেও এই হার কোনো উন্নতির সূচক নির্দেশ করে না বলেই সংশ্লিষ্টরা মানছেন। কেননা পরিবহন খাতে ব্যবস্থাপনায় কোনো উন্নতি ঘটেনি। দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কথা বহু বছর ধরেই চলে আসছে- কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয় নি। সড়কের নৈরাজ্য বদলাচ্ছে না বটেই বরং তার অবনতি হচ্ছে। 


দূরপথে মোটর সাইকেলে পরিবারসহ যাত্রার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। লক্ষ্য করা যায়, এক মোটর সাইকেলে পরিবারের ৪-৫ জন সদস্য পর্যন্ত পরিবহণ করা হয়। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এমন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা মোটেও কম নয়। অভিভাবকগণ সন্তানদের আবদার রক্ষার্থে মোটর সাইকেল কিনে দিচ্ছেন। কিন্তু তারা একটিবারের জন্য ভাবেননা যে, তাদের সন্তান মোটর সাইকেল চালনার ক্ষেত্রে কতটুকু সক্ষম এবং ট্রাফিক আ্ইন সম্পর্কে ধারণা কতটুকু? ফলে ওই তরুণরা সড়কে মোটর সাইকেল চালনায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ যেমন দরকার- একইভাবে অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।