পিচ উঠে গর্ত, বর্ষায় কাদায় ডুবছে শিবগঞ্জের সড়ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দায়পুকুরিয়া ইউনিয়নের কামালপুর-মির্জাপুর-কর্ণখালী সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। পিচ উঠে গিয়ে সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। বর্ষার বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে সড়কের বিভিন্ন অংশ কাদা-পানিতে পরিণত হয়েছে। এতে কয়েক গ্রামের মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা চলাচল করেন। বিদ্যালয়-কলেজে যাতায়াত, রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে সড়কটি ব্যবহার করা হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সময় ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বেশ কয়েকটি অংশে পুরোনো পিচের কোনো চিহ্ন নেই। বড় বড় গর্তে জমে আছে বৃষ্টির পানি। কোথা দিয়ে নিরাপদে যানবাহন চলাচল করবে, তা বোঝাও কঠিন। অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনকে ধীরগতিতে গর্ত এড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এই পথ দিয়েই এলাকার ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায়। বৃষ্টি হলে পানি জমে যাওয়ায় তাদের চলাচলে খুব সমস্যা হয়। অনেক সময় হেঁটেও যাওয়া সম্ভব হয় না। দ্রুত সংস্কার হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।’
কলেজশিক্ষক আব্দুল জাব্বার বলেন, সড়কটির দুরবস্থা দীর্ঘদিনের। তবে বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বিশেষ করে জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার সময় ভোগান্তি বেশি হয়। অ্যাম্বুলেন্সসহ কোনো যানবাহনই স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না।
ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, আমের মৌসুমে এই সড়ক দিয়ে বিপুল পরিমাণ আম বাজারে নেওয়া হয়। কিন্তু সড়কের গর্তের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করে। কখনো অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন গর্তে পড়ে দুর্ঘটনাও ঘটে। এতে পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে।
আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, গর্তে যানবাহন পড়ে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা এলেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। সাময়িক মেরামতের বদলে সড়কটির প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী শাহিনুল ইসলাম বলেন, সড়কটি সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী নভেম্বর মাসে ঠিকাদার নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদার নিয়োগ করা হলে কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।