পবায় মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি
রাজশাহীর পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়িয়াপাড়া জামে মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরহাদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদাড়িয়াপাড়া জামে মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ নিয়ে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আদাড়িয়াপাড়া রেলক্রসিং এলাকায় হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য তছলিম উদ্দিনকে কয়েকজন কিল-ঘুষি মারেন বলে জানা গেছে।
এতে তিনি আহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ও হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য তছলিম উদ্দিন। তাঁরা রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মুসল্লিদের মতামতের ভিত্তিতে ঐকমত্যের মাধ্যমে মসজিদ কমিটি গঠনের কথা বলেন। পরে বাড়ি ফেরার পথে রেলক্রসিং এলাকায় তছলিম উদ্দিনকে কয়েকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
তছলিম উদ্দিনের অভিযোগ, জামায়াতের কর্মী বাপ্পিসহ কয়েকজন তাঁকে কিল-ঘুষি মারেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এবিষয়ে হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য তছলিম উদ্দিন বলেন, ‘মসজিদ কমিটি নিয়ে সবাইকে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রেলক্রসিং এলাকায় কয়েকজন আমাকে মারধর করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মসজিদ কমিটি নিয়ে কোনো বিরোধ বা সংঘাত আমরা চাই না। মুসল্লিদের ঐক্যের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করাই আমাদের উদ্দেশ্য। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনায় তছলিম উদ্দিন আহত হন। পরে তছলিম উদ্দিনের দলবল আমার বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনগণ তা প্রতিহত করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’