ইউ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছে
বাংলাদেশেরও ভাববার ও সিদ্ধান্ত নেয়ার এখনই সময়
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক দিকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এই মাধ্যমটির নেতিবাচক দিকটি কখনো কখনো ইতিবাচক ধারণাকে পাল্টে দিতে চায়। তদুপরি ইতিবাচকতার পথ ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে হবে। এর জন্যই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ বিশ্বব্যাপি আলোচিত হচ্ছে। সময় থাকতেই এর লাগাম টেনে ধরা না গেলে মানব সভ্যতা ধ্বংসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সোস্যাল মিডিয়া নিয়ে উন্নত দেশগুলো ভাবিতে শুরু করেছে। তারা ঐক্যমত্য যে, এর লাগাম টেনে ধরতেই হবে।
ইউরোপের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব সংক্রান্ত উদ্বেগজনক এক প্রতিবেদনের জেরে প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশুদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ বা সীমিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেছেন, শিশুদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশ রক্ষায় তারা শিগগিরই বয়স-উপযোগী নিষেধাজ্ঞা নিয়ে একটি প্রস্তাবনা পেশ করতে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ এমন আইন পাশ করেছে। তবে ইউরোপের ২৭টি দেশের এ জোট আইনটি পাস করলে তা বিশ্বের ইতিহাসে শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ওপর সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা হবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট। তবে ইউরোপে এ ধরনের আইন কার্যকর করতে হলে জোটের ২৭টি দেশেরই সম্মতি ও দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হবে, যা বেশ সময়সাপেক্ষ। ইইউ কমিশন এখন এ প্রতিবেদন ও এর সুপারিশগুলো পর্যালোচনা এবং আগামী গ্রীষ্মের পর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা পেশ করবে।
বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যম এখন শিশুসহ সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে মারাত্মক আসক্তির কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এটি মানুষের চিন্তাশক্তিকে সংক্ষিপ্ত করছে, আবার সামাজিক অপরাধ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে। সামাজিক মাধ্যমের আসক্তি মাদকের আসক্তির চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যবহারে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এটি সীমিত ও নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা, ডিজিটাল ডিটক্সের অভ্যাস করা এবং নিজের প্রোফাইল থেকে নেতিবাচক বিষয়গুলো পরিহার করে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।
উন্নত দেশসমূহের জোট ইউরোপিয় ইউনিয়ন সিদ্ধান্ত নেয়ার পথে। অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণে আইন করেছে। বাংলাদেশেরও সামাজিক যোগাযোগ নিয়ে ভাববার ও সিদ্ধান্ত নেয়ার এখনই সময়।