আমের ‘ঢলন’ প্রথা বাতিল, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের দাবি
বাজারে কেজি পদ্ধতি কার্যকর করা জরুরি
আমের ‘ঢলন’ প্রথা বাতিল, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং রাজশাহীতে আধুনিক আম প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন আমের ভ্যালুচেইন প্রমোশনাল বডির নেতারা ও আমচাষিরা। এ দাবিতে বুধবার (১৫ জুলাই) রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এবং রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরের জেলা প্রশাসকদের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা। এ নিয়ে সোনার দেশ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে বক্তারা জানিয়েছেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরে দেশের সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদিত হলেও এ অঞ্চলে আধুনিক প্রসেসিং সেন্টার, কোল্ড স্টোরেজ, ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি) প্ল্যান্ট ও কোয়ারেন্টিন সুবিধা নেই। ফলে আম থেকে জুস, জ্যাম, জেলি, আচার, শুকনো আমসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদন এবং রফতানির সুযোগ সীমিত হয়ে রয়েছে।
আমের হাটে সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। প্রশাসন কেজি হিসেবে আম কেনাবেচার নির্দেশ দিলেও বাজারে এখনও ৫০-৫২ কেজিকে এক মণ ধরে আম কেনা হচ্ছে। ফলে চাষিদের প্রতি মণে ১০-১২ কেজি আম বিনামূল্যে দিতে হচ্ছে।
চাষিদের অভিযোগ, এই প্রথার কারণে তাদের উৎপাদন খরচ তোলাই কষ্ট হচ্ছে। অনেক চাষি জানিয়েছেন, দাম কম এবং অতিরিক্ত ওজন দেওয়ার কারণে তাদের লোকসান হচ্ছে। ফলন কম, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার কারণে অতিরিক্ত ওজনের বোঝা তাদের জন্য আরও চাপ তৈরি করছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের অন্যান্য বড় মোকামে একই প্রথা চালু থাকায় তারা আলাদা নিয়ম মানতে পারছেন না। এটিও একটি বাস্তব সমস্যা।
প্রশাসন একটি নির্দেশনা দিয়েছে কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই। সরকার যদি কেজি ভিত্তিক কেনাবেচা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, তাহলে সেটি সারাদেশে একযোগে বাস্তবায়ন করা উচিত। শুধু একটি হাটে নয়, সব প্রধান আমের মোকামে একই নিয়ম চালু করতে হবে। এতে চাষি এবং ব্যবসায়ী উভয় পক্ষই ন্যায্য সুবিধা পাবেন। আম চাষ দেশের কৃষি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন জেলায় লাখ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়। চাষিরা যদি ন্যায্য দাম না পান, তাহলে অনেকেই ভবিষ্যতে আম চাষে আগ্রহ হারাবেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে আমের উৎপাদন কমতে পারে।
প্রশাসনের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করা, অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া। চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করা দরকার। সবাই আন্তরিক হলে আমের বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।