নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল
সমাধানের বাধা দূর হয় না কেন?
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল পূর্ণরূপে চালু করা সম্ভব হয় নি। কর্তৃপক্ষের সাথে বাস মালিক ও শ্রমিকদের বারবার বৈঠক হয়েছে- কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় নি। কেন এর সমাধান হচ্ছে না? তবে, কোনো পক্ষই আন্তরিকভাবে সমস্যা সমাধানে আগ্রহ দেখাচ্ছে না- দুই দশকের নানা টানাপোড়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করলে এমন ধারণাই হয়। বাস মালিক ও শ্রমিকদের অভিযোগগুলোর বাইরেও সমস্যা আছে। বাস্তবিক সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায় না।
সোনার দেশ পত্রিকার সরেজমিন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী টার্মিনালের ভেতরে কিছু গাড়ি থাকে। চালক-সহকারী ছাড়া ভেতরে তেমন কেউ নেই। টার্মিনালের সব কটি প্রবেশপথে জলাবদ্ধতা। কিছুক্ষণ পরপর খালি বাস টার্মিনাল থেকে বের হচ্ছে। টার্মিনালে যাত্রী না আসায় এটি এখন বাস পার্কিঙের জন্য ব্যবহৃত হয়। চালকেরা বিশ্রাম নেন। বাসের ধোয়ামোছার কাজও হয় এখানে। নওদাপাড়া টার্মিনাল থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো তালাইমারী মোড়, ভদ্রার মোড়, বিন্দুর মোড় ও গ্রেটার রোড, রেলস্টেশনের প্রবেশপথসহ বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠায়। এ সময় সড়কে বাসগুলোর জট তৈরি হয়-যা রাস্তায় চলাচলকারি অন্য যানবাহন এবং পথচারিদের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হয়। অথচ বাস টার্মিনালে জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গটি গোড়া থেকেই চলে আসছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয় না। ২০২২ সালে নওদাপাড়ার বাস টার্মিনাল স্থানান্তরে মালিকপক্ষ রাজি হলেও সেটা আজও সম্ভব হয়নি।
রাজশাহী মহানগরীর যানজট নিরসনে ও যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতেই নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল তৈরি করা হয়। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০০০ সালে নওদাপাড়া এলাকায় ৭ দশমিক ৪১ একর জায়গায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হয় ২০০৪ সালে। এতে ব্যয় হয় ৭ কোটি ১৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। টার্মিনালে একসঙ্গে প্রায় ৫০০টি বাস দাঁড়াতে পারে। টার্মিনালের পাশাপাশি নগরীর সঙ্গে সংযোগ সড়ক হিসেবে ভদ্রা পর্যন্ত ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ কিলোমিটার সড়কও নির্মাণ করা হয়।
যা এখন চারলেনে উন্নত করা হয়েছে। তারপরেও কেন বাস টার্মিনালটি কেন চালু করা যাচ্ছে না-তা খতিয়ে দেখা এবং সমস্যাগুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করা দরকার। সম্ভবত বাস টার্মিনাল প্রকল্পটি গ্রহণ করার আগে বাস মািিলকদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করা হয় নি। এটা হলে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হতো। টার্মিনালের মূল স্টেহোল্ডারদের পরামর্শের প্রয়োজন এখনো আছে। প্রথমত বাস টার্মিনাল চালু করতেই হবে। এর জন্য প্রকৃত সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে এবং ওইসব সমস্যার দ্রুত সমাধান খুঁজতে হবে। টার্মিনালে যাত্রীদের যাওয়ার বাধাগুলোও দূর করতে হবে। সমস্যাকে এড়িয়ে বাস টার্মিনাল চালুতে বাধ্যবাধকতা তৈরি করলে তা শুধুই আরোপ করা হবে- পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। একটি কার্যকর সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাসমালিকদের কাছেই এর সমাধান আছে। উভয়পক্ষ আন্তরিক হলে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে।