মাদকাসক্তরা অপরাধে জড়াচ্ছে
মাদক প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা চাই
রাজশাহী মহানগরীতে মাদকাসক্তের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরীর অলি-গলিতে নাগালের মধ্যেই মাদকের বিকিকিনি। আর মাদকাসক্তারা মাদকের টাকার জন্য সব ধরনের অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। বেড়েছে চুরি-ছিনাইয়ের ঘটনা। এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে র্যাবের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, এ বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে চুরির মামলা হয়েছে ১১৪ টি। গেল তিন মাসে ছিনতাই মামলা হয়েছে ১৩ টি। ডাকাতি মামলা একটি। যদিও ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। কেবল নগরীর চন্দ্রিমা থানায় ৫০ টির বেশি চুরির ঘটনা। র্যাবের তথ্যমতে রাজশাহীতে মোট অপরাধের ৪৪ শতাংশই মাদককেন্দ্রিক।
সবচেয়ে বেশি চুরি হচ্ছে এসির তামার পাইপ, বিদ্যুৎ মিটারের তার, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল। এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকেও চুরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের বাইসাইকেল।
মাদকাসক্তির বৃদ্ধির সঙ্গে সামাজিক অপরাধের সরাসরি ও গভীর সংযোগ রয়েছে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের শারীরিক ও মানসিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চুরি, ছিনতাই, খুন, পারিবারিক সহিংসতা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক কেনার টাকার জন্য তারা অনেক সময় পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীদেরও আক্রমণ করে। বাবা. মা, ভাইকে হত্যার মত ঘটনাও ঘটছে। অর্থাৎ মাদক চোরাচালান এবং মাদকাসক্তির প্রবণতা বাড়ার ফলে সামাজিকভাবে এর নেতিবাচক প্রভাব আমরা লক্ষ্য করছি। এর ফলে আইন শৃঙ্খলার অবনতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সব সরকারের আমলে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের মতো ঘোষণা উচ্চরিত হয়েছে। একইভাবে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনির দায়িত্বশীলরা অহরহ একই ঘোষণার পুনরাবৃত্তি করে থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। বরং মাদকের প্রসার ঘটেই চলেছে। দেশের অভ্যন্তরে মাদকের বিস্তার রোধ করতে না পারার পেছনে দুটি কারণকে দায়ি করা হয়। এর একটি হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনির একশ্রেণির দুর্নীতিপরায়ণ সদস্যদের সম্পৃক্ততা এবং দ্বিতীয়ত, সব সরকারের আমলে মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা রাজনৈতিক গডফাদারদের তৎপরতা। এদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের ছায়াতলেই পাড়া-মহল্লায় মাদকাসক্ত কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে, এরা অতি ভয়ঙ্কর।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়া এবং নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে বিনা বাধায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে মাদকের বড় বড় চালান। বিশেষ করে টেকনাফ থেকে ইয়াবা ও আইসের শত শত চালান দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার কাজ হলো- আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা। পুলিশের মনোবল চাঙ্গা করে তাদের আত্মমনোবল গড়ে তোলা। সবিশেষ, রাজজনৈতিক সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটাতে পারলেই মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হয়।