শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

শিমলা পার্ক ‘বিশেষ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এলাকা’

সোনার দেশ ২২ জুলাই ২০২৬ ১২:০২ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২২ জুলাই ২০২৬ ১২:০২ পূর্বাহ্ন
শিমলা পার্ক ‘বিশেষ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এলাকা’

বহুমাত্রিক পর্যটন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো

পদ্মাপাড়ের সিমলা পার্কের কথা কার না জানা? পার্কের ঘন-সবুজ সৌন্দর্য, সবুজ-ছায়াতলে গ্রীষ্মের মৃদুমন্দ হিমেল হাওয়া, নানা জাতের পাখপাখালির কলরব মনকে নাড়া না দিয়ে পারে না। প্রাণপ্রকারের অপূর্ব মিলন-সম্ভার নদীর স্রোতের মত করে ভাসিয়ে নিয়ে যায় ভালবাসার আহ্বানে। এমন স্বর্গীয় স্থান নিয়ে কেনই বা মনোমালিন্য কিংবা বিভেদ থাকবে? থাক না, সব শ্রেণির মানুষের ভালবাসার কেন্দ্র হিসেবে। মানব-হৃদয়ের প্রশান্তি গুরুত্বপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণময় হয়ে উঠুক। মনোজগতের সন্তুষ্টিই তো মানবদেহে সুখের অনুভূতি সৃষ্টি করে যায়। সিমলা পার্ক সংক্ষিপ্ত কিন্তু অনুভবে অনন্য।   

জীব-বৈচিত্রপূর্ণ শিমলা পার্ককে ‘বিশেষ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এলাকা’ ঘোষণার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা পরিষদের সর্বশেষ (৪১তম) সভায় রাজশাহী জেলার পদ্মাচরের শিমলা পার্ককে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একই সভায় বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার বড়বিলা বিল এবং রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আওতাধীন বাবুডাইং পর্যটন ও পিকনিক স্পটকেও বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। শিমলা পার্কের বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন অংশ থেকে জেলা প্রশাসকের বাংলোসংলগ্ন শহর রক্ষা বাঁধ পর্যন্ত প্রায় ১৭ একর এলাকা এই বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হবে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সোনার দেশ সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বার্ড ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, বছরের অধিকাংশ সময় এখানে ২০০টিরও বেশি প্রজাতির পাখির সমাগম ঘটে। চখাচখি, কবুতর, ঘুঘু, কুবো, আবাবিল, টিটি, বাটান, পানকৌড়ি, গাঙচিল, বক, কাঠঠোকরা, ফিঙে, টিয়া, মাছরাঙা, শালিক, দোয়েল, মৌটুসি, চঁড়ুই, খঞ্জনা, বুলবুলি, বেনেবউ, জলমুরগি, কোকিলসহ আরও অসংখ্য পরিচিত ও অপরিচিত দেশি-বিদেশি পাখি বিশেষ করে বর্ষা ও শীতকালে এখানে দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া এখানে রয়েছে খরগোশ, কাঠবিড়ালি, ইঁদুর, খাটাশ, গন্ধগোকুল, মেছোবিড়াল, বেজি, শিয়াল এবং বিভিন্ন প্রজাতির বাদুড়সহ ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী। পাশাপাশি রয়েছে ২৪ প্রজাতির সরীসৃপ, যেমন কচ্ছপ, গিরগিটি, টিকটিকি, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ এবং ১৩ প্রজাতির উভচর প্রাণী।

শিমলা পার্ককে ‘বিশেষ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এলাকা’ ঘোষণার নীতিগত অনুমোদন প্রকৃতিপ্রেমী প্রতিটি মানুষকে নিঃসন্দেহে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করবে। এই সিদ্ধান্ত রাজশাহী অঞ্চলের পর্যটন শিল্পকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আরো নতুন নতুন উদ্ভাবনিও সামনে আসবে। এখন সংরক্ষণ এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণার দাবি সামনে চলে আসে। এ ধরনের নতুন নতুন উদ্ভাবনি শিমলা পার্ককে বহুমুখি আকর্ষণের কেন্দবিন্দুতে পরিণত করার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে।