রবিবার, নভেম্বর ০৮, ২০২৬

পঞ্চগড় হাসপাতালে নারী ওয়ার্ডে পুরুষদের রাত্রিযাপন, গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৮ অপরাহ্ন জাতীয়
পঞ্চগড় প্রতিনিধি ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
পঞ্চগড় হাসপাতালে নারী ওয়ার্ডে পুরুষদের রাত্রিযাপন, গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের নারী সার্জারি ওয়ার্ডে পুরুষ স্বজনদের অবাধ যাতায়াত ও রাত্রিযাপনের অভিযোগ উঠেছে। এতে নারী রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও চিকিৎসার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর সমাধান হচ্ছে না।


সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় নারী সার্জারি রোগীদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরুষ অবস্থান করছেন। রোগীর স্বজন হিসেবে তাঁরা ওয়ার্ডে প্রবেশ করলেও অনেকেই দীর্ঘসময় অবস্থান করছেন। এমনকি কেউ কেউ রাতেও নারী রোগীদের সঙ্গে ওয়ার্ডে থাকছেন। এতে নারী রোগীদের চিকিৎসা ও বিশ্রামের পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


বিশেষ করে অস্ত্রোপচার করা রোগীদের চিকিৎসা, ইনজেকশন ও অন্যান্য সেবার সময় নারী রোগীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু নারী ওয়ার্ডে পুরুষদের অবাধ উপস্থিতির কারণে রোগীদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকারী নার্সরাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স বলেন, নারী সার্জারি ওয়ার্ডে রোগীদের পুরুষ স্বজনেরা অবস্থান করেন। আমরা যখন রোগীদের ক্যানুলা করি বা ইনজেকশন দিই, তখন এসব পুরুষ তাকিয়ে থাকেন। আমরা এবং দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তাঁরা ওয়ার্ড থেকে বের হতে চান না। এতে রোগীরা যেমন বিব্রত হন, আমরাও অস্বস্তিতে পড়ি।


হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে স্বজনের থাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে নারী ওয়ার্ডে প্রবেশ ও অবস্থানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা জরুরি। বিশেষ করে রাতে কারা রোগীর সঙ্গে থাকতে পারবেন, সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবেশপথে নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন ব্যক্তিরা। নারী রোগীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে নারী অ্যাটেনডেন্টের ব্যবস্থা এবং পরিচয়পত্র বা অনুমতিপত্রের মাধ্যমে স্বজনদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণেরও পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।


এ বিষয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ও তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে বোঝানোর পরও রোগীর স্বজনেরা নারী সার্জারি ওয়ার্ডে দীর্ঘসময় অবস্থান করেন, এমনকি রাতেও থাকেন। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।